মধুর অত্যাচারে মুস্তাফিজ

স্পোর্টস ডেস্ক::ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ জয় করে দীর্ঘ দুই মাস ক্লান্ত হয়ে বীরদর্পে নিজের জন্মভূমি সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে বাবা-মায়ের কোলে ফিরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাড়িতে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটু একান্তে সময় কাটানো, সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশ্রাম নেওয়া। কিন্তু সেই একাকিত্বটা কিছুতেই পাচ্ছেন না বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই পেস বোলার।সারাদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের সেলফি, ফটো আর অটোগ্রাফের আবদার চলছে। স্থানীয় গুণীজন, আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতি আছে। এমনকি প্রতিটা দিনই সংবাদ মাধ্যমের লোকজনের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে মুস্তাফিজের বাড়িতে। ফলে এক ধরনের আদরের মধুর অত্যাচারেই সময় কাটছে মুস্তাফিজের।এই আদর-আবদারের কারণও আছে। প্রথমবারের মত আইপিএল খেলতে যেয়ে বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশি এই পেসার। হয়েছেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়। আইপিএল খেলতে যেয়ে মুস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন নতুন উপাধি ‘দ্যা ফিজ’। আইপিএল কাঁপানো বিশ্বসেরা ক্রিকেটার মুস্তাফিজ এখন ১৬ কোটি মানুষের সন্তান। আগামী চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের জন্য বড় কোনো প্রাপ্তি এনে দেবেন তিনি, এমন প্রত্যাশায় তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের মানুষ এখন উদ্বেলিত। তারা মুস্তাফিজকে নিয়ে এখন আত্মহারা। আগামীতে তিনি আরও ভালো খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন এমন প্রত্যাশা তাদের।সেরা  ক্রিকেটারই নন শুধু তিনি বাংলাভাষা শিখিয়েছেন বিদেশিদেরও। তার সাথে কথা বলতে ও দেখা করতে দলে দলে লোক আসছেন মুস্তাফিজের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামে। তিনি কথা বলছেন, তবে মিডিয়ার সামনে নয়। চোট এখনও কিছুটা আছে বলে জানালেন তিনি। গ্রামের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছেন তাকে সংবর্ধনা দিতে। কিন্তু মুস্তাফিজ না করেছেন। আর তার গ্রামের ছেলেরা বলছেন আমরাও এক একজন মুস্তাফিজ হয়ে উঠতে চাই। শিশুসুলভ চপলতা ও অত্যন্ত সরল সহজ তরুণ বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজ এখন বাড়িতে কয়েকদিনের ছুটি কাটাচ্ছেন। তিনি মিডিয়ার সাথে কোনো বলা বারন রয়েছে বলে জানালেন।ভারতে প্রায় দুই মাস ধরে আইপিএলে খেলে বাড়ি ফিরেছেন মুস্তাফিজ। স্বজনদের মাঝে আসতে পেরে তিনি আনন্দিত। গ্রামের মানুষ স্কুল মাঠে বড় পর্দা টানিয়ে উত্সবমুখর পরিবেশে নিয়মিত মুস্তাফিজের খেলা দেখেছেন। তারা তাদের সন্তানের খেলায় মুগ্ধ হয়ে করতালি দিয়ে তৃপ্তি বোধ করেছেন।মুস্তাফিজের স্কুল বরেয়া মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরালাল সরকার জানান, ‘এই স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন ২০১১ সালে। আমরা চাই মুস্তাফিজ আরও ভালো খেলা করে বিশ্বকাপ নিয়ে আসবে বাংলাদেশে। তিনি আরো জানান, লেখাপড়ায় তার তেমন মন ছিল না। সারাক্ষণ ক্রিকেট নিয়ে সে ব্যস্ত থাকতো। তাই ক্রিকেট খেলে সে নিজেকে গড়ে তুলেছে বিশ্বের সেরা বোলার। সেরা ক্রিকেটারই নয় সে বাংলাভাষা শিখিয়েছে বিদেশিদেরও।’কাটার মাষ্টার মুস্তাফিজ বলছিলেন, ‘নিজের দেশে নিজের মানুষের কাছে ফিরে এসে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। মায়ের কাছে ফিরে আমি আনন্দিত।’কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল ইসলাম ছোট জানান, ‘আমার ইউনিয়নের ছেলে মুস্তাফিজ, আমাদের জাতির গর্ব। তার মতো মুস্তাফিজ ঘরে ঘরে আরও গড়ে উঠুক। তিনি বিশ্বে বাংলাভাষার মর্যাদাও বাড়িয়ে দিয়েছেন।’মুস্তাফিজের বাবা আলহাজ আবুল কাসেম গাজী জানান, ‘মুস্তাফিজ এখন আর আমার একার সন্তান নয়। মুস্তাফিজ এখন বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সন্তান। দীর্ঘ ৬০ দিন ভারতে আইপিএল খেলে শুধু মুস্তাফিজের দল হায়দরাবাদ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমি যেমন গর্বিত, তেমনি বাংলাদেশও আজ গর্বিত। আগামীতে মুস্তাফিজ যেন আরো ভালো খেলা করে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে সেজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।’মুস্তাফিজের সেঝ ভাই মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, ‘মুস্তাফিজ দীর্ঘদিন আমাদের ছেড়ে বাইরে খেলতে গিয়েছিল। এতে পরিবারের মা-বাবা-ভাই-বোনের যে অভাবটা ছিল সেটা এখন কাটিয়ে উঠবে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন সে যেন আগামীতে আরো ভালো খেলতে পারে।’

Leave a Reply