ছিয়াত্তরে পা দিলেন নায়করাজ

download-1-5বাংলাদেশের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নায়ক আব্দুর রাজ্জাক আজ ছিয়াত্তরে পা দিলেন। চলচ্চিত্রশিল্পে প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল পার করেছেন তিনি। ভক্তরা তাকে চেনেন নায়করাজ রাজ্জাক নামে।

আব্দুর রাজ্জাকের জন্ম ১৯৪২ সালে কলকাতায়। ১৯৬৪ সালে ঢাকায় আসেন। এরপর জড়িয়ে পড়েন চলচ্চিত্রে। দু-একটা সিনেমায় ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করার পর ৬৭ সালে মুক্তি পায় নায়ক হিসেবে তার প্রথম ছায়াছবি বেহুলা। এই ছবিতে সুচন্দার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি । সেই থেকে শুরু।

অবশ্য ৬০-এর দশকে হাসির ছবি ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’-এ একটি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রাজ্জাকের অভিনয় জীবনের সূচনা ।

বরাবরের মতো এবারের জন্মদিনে ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত এই জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা। তার কনিষ্ঠপুত্র অভিনেতা সম্রাট জানিয়েছেন তিনি ভালো আছেন। সম্রাট বলেন, ‘আব্বার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। তবে কিছুদিন আগে তার শ্বাসকষ্ট ছিল, এখন স্বাভাবিক আছেন।

আজ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে চ্যানেল আইয়ের ‘তারকাকথন’ অনুষ্ঠানে সরাসরি হাজির হবেন নায়করাজ । এরপর বাসায় থাকবেন। গতকাল থেকেই এই কিংবদন্তি শুভেচ্ছার ডালিতে সিক্ত হচ্ছেন।

রাজ্জাকের নায়ক জীবনে জন্ম হয়েছে বেশ কয়েকটি সাড়া জাগানো জুটি। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে বেশ কয়েকটি জুটিতেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। রাজ্জাক-সুচন্দা, রাজ্জাক-কবরী, রাজ্জাক-শাবানা ও রাজ্জাক-ববিতা এরা জুটি হিসেবে আজও স্মরণীয়।রাজ্জাক-কবরী জুটির কথা আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

গত জন্মদিনে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্জাক বলেন, ‘আমার প্রেম আমার ভালোবাসা আমার সবকিছু অভিনয়, চলচ্চিত্র। এ ছাড়া আমি আর কিছু জানি না, পারি না। আল্লাহ অনেক সুযোগ দিয়েছেন, অনেক কিছু করতে পারতাম। করিনি।’

বিবিসিকে রাজ্জাক বলেন, ‘আমি আমার জীবনের অতীত ভুলি না। আমি এই শহরে রিফিউজি হয়ে এসেছি। স্ট্রাগল করেছি। না খেয়ে থেকেছি। যার জন্য পয়সার প্রতি আমার লোভ কোনো দিন আসেনি। ওটা আসেনি বলেই আজকে আমি এতদূর শান্তিতে এসেছি।’

আগের দিনের অনেক তারকার মতো এখনকার তারকাদের চোখেও রাজ্জাক একজন আইডল। ঢাকাই ছবির এই সময়ের তুমুল জনপ্রিয় একজন অভিনেতা শাকিব খানের ভাষায়, ‘এখনকার প্রজন্ম এবং আগামী যত প্রজন্ম আসবে তাদের কাছে নায়করাজ রাজ্জাক একটি প্রেরণার শক্তি হয়ে থাকবে।’

প্রায় অর্ধশত বছরের অভিনেতা হিসেবে রাজ্জাকের ঝুলিতে রয়েছে তিনশোটির মতো বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র। ৬০-এর দশকের শেষ থেকে ’৭০ ও ’৮০-এর দশকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠেন । রাজ্জাক অভিনীত জননন্দিত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নীল আকাশের নীচে, ময়নামতি, মধু মিলন, পীচ ঢালা পথ, যে আগুনে পুড়ি, জীবন থেকে নেয়া, কী যে করি, অবুঝ মন, রংবাজ, বেঈমান, আলোর মিছিল, অশিক্ষিত, অনন্ত প্রেম, বাদী থেকে বেগম, আগুন নিয়ে খেলা, এতটুকু আশা, নাচের পুতুল, অশ্রু দিয়ে লেখা, ওরা ১১ জন, গুন্ডা, অশিক্ষিত, অগ্নিশিখা, ছুটির ঘন্টা, মহানগর, বড় ভাল লোক ছিল, নাজমা, চন্দ্রনাথ, অভিযান, শুভদা, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, যোগাযোগ, অন্ধ বিশ্বাস, বাবা কেন চাকর ইত্যাদি।

অভিনয় জীবনের একপর্যায়ে ছবি পরিচালনার কাজও শুরু করেন রাজ্জাক। ষোলটির মতো ছায়াছবি পরিচালনা করেছেন তিনি। সবশেষ পরিচালিত ছবিটির নাম ‘আয়না কাহিনী’।

Leave a Reply